নিজস্ব সংবাদদাতা
দাবি আদায়ে মারমুখি আচরণে লিপ্ত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (এনসিসি) এর পরিচ্ছন্নকর্মীরা। তারা এতোটাই মারমুখি হয়েছে যে, এনসিসির মূল ফটকের নানা জায়গায় এমনকি গাড়িতেও ময়লা ছুাঁড়ে মারে। এসময় মেয়র আইভী অফিসে আছেন জেনেও তারা এসব বাড়াবাড়ি করেছে।৬ দফা দাবি আদায়ে চলমান আন্দোলনের মধ্যে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করেছে পরিচ্ছন্নকর্মীরা। তারা এনসিসির মূল ফটকের ভেতরে ও এনসিসির গাড়িগুলোয় ময়লা ছুঁড়ে প্রতিবাদ করেছে। মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) দুপুরে এনসিসি প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মেয়র আইভী। কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এসে তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রতিবাদকারীরা মেয়রের সামনেই হইচই শুরু করে। এ ঘটনার আগে সকাল থেকে নিজেদের ৬ দফা দাবি আদায়ে এনসিসির সামনে অবস্থান নেয় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। নানা শ্লোগানে এনসিসির দখলের চেষ্টা করে তারা। এসময় মেয়র আইভী নিজ কার্যালয়ের ছিলেন। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে একদল পরিচ্ছন্নতাকর্মী এনসিসির বিভিন্ন গাড়িতে ময়লা-আবর্জনা ছোঁড়ে দেয়। কেউ কেউ ফটক থেকে ভেতর পর্যন্ত আবর্জনা ফেলে। এসময় তাদের বোঝাতে নিজ কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন মেয়র। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের শান্ত করতে তিনি বলেন, সবার বেতন ৩ মাস আগে থেকে বেড়ে আছে। তবে আমরা কারও টাকা দিতে পারি নাই, কারণ টাকা নাই। ৮ হাজার টাকা হয়েছে বেতন, বাসা ভাড়া বাবদ পাবে ৫ হাজার। আমার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন, অবরুদ্ধ করেন, শ্লোগান দেনসমস্যা নাই কিন্তু ময়লা ফেলার মতো দুঃসাহস কীভাবে দেখালেন? এটি কোন ধরনের আচরণ?
মেয়রের কথা শুনে এসময় আন্দোলনকারীরা হইচই শুরু করেন। মানববন্ধন করায় এনসিসির মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে সিদ্ধিরগঞ্জের কয়েকজন কাউন্সিলর হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পক্ষে শ্রমিক নেতা ও জেলার সিপিবি সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, সুইজারল্যান্ডে যদি কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী এক ঘণ্টা কাজ করে, ৩ হাজার ডলার পায়। শুধু ঘণ্টা নয় সেখানে যখন কেউ নিয়োগ পায় তাদের নিয়োগপত্র দেয়া হয় এবং সন্তানদের শিক্ষা ও পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার নিশ্চয়তা দেয়। কম টাকা দেয় এমন দেশ জাপান। কিন্তু সেখানেও এক ঘণ্টা কাজ করলে ১ হাজার ১৪৯ টাকা দেয়া হয়। ইতালিতে দেয়া হয় ৯শ’ টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়) ভারত ও মিশর সবচেয়ে কম টাকা দেয়। তাও সেটি প্রতি ঘণ্টায় ১শ’। সারা পৃথিবীতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সন্তানদের ভরণ-পোষণ ও আবাসন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেয়া হয়। আপনাদের আশ্বাস দেয়া হয় এপার্টমেন্ট হচ্ছে। আপনারা দেখছেন। আপনারা যখন সিটি কর্পোরেশনে ধর্মঘট করছিলেন মাননীয় মেয়র তখন দেশের বাইরে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন দেশে এসে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মজুরি বৃদ্ধি করবেন। তারা তাদের কথা রাখছেন না। কারণ, তারা মনে করে এই মানুষগুলোকে দাবিয়ে রাখা যাবে। আজ যখন আপনাদের দাবি নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে আমরা অবস্থান করছি সিদ্ধিরগঞ্জের কিছু কাউন্সিলর হুমকি ধমকি দিচ্ছে। আমরা আপনাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংগঠন এনসিসির ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কিশোর লাল বলেন, এলাকায় অন্তত ১ হাজার ২শ’ ৪০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছে। যাদের কোনো নিয়োগপত্র নেই। মাত্র দেড় থেকে ২ হাজার টাকা বেতন দিয়ে কি কারও পরিবার চলে? এ বিষয়ে জানতে এনসিসির মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দেয়া হলে সেটি রিসিভ করেন তার গানম্যান শফিক। তিনি জানান, মেয়র একটি অনুষ্ঠানে আছেন। তার মুঠোফোনটি তাই আমার কাছে। পরবর্তীতেও মেয়রকে ফোন করে পাওয়া যায়নি। এরআগে ৬ দফা দাবি আদায়ে সোমবার (১৩ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। নিজেদের দাবির পক্ষে বক্তব্য দিয়ে নিজেদের মানবেতর জীবনযাপনের কথা তুলে ধরেন তারা। এনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন ভাতা বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দেয় এনসিসির ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন। ৬ দফার দাবিগুলো হলো, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ মোতাবেক শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদান। এনসিসির কর্মরত সব পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরি স্থায়ীকরণ। কর্মীর ন্যূনতম দৈনিক হাজিরা ৬শ’ ৫০ টাকা ও ট্রাক শ্রমিকদের ৭শ’ ৫০ টাকা করা। প্রত্যেক শ্রমিকের বেতনের সমপরিমাণ ঈদ বা পূজার বোনাস প্রদান। প্রতি ওয়ার্ডে দু’জন করে ডোম নিয়োগ। এনসিসি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার সময় যদি কোনো শ্রমিক দুর্ঘটনায় নিহত হন, তাকে লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া। স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করলে তাদের কাষ্ট বা দাফনের জন্য আগের বরাদ্দ ৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ৫০ হাজার টাকা প্রদান।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।